Saturday, July 30, 2016

মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ইতিহাস: এশিরিয় সভ্যতা

বাংলার মাটি বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল, পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক, হে ভগবান। বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ, পুর্ন হউক, পূর্ন হউক, পূর্ন হ্‌উক, হে ভগবান। রবীন্দ্রনাথ এই লেখাটা জীবনানন্দ দাশকে দিয়ে শুরু করা যায়। নিচের চারটে লাইন কবির রুপসীবাংলার। চারিদিকে শান্ত বাতি, ভিজে গন্ধ, মৃদু কলরব; খেয়ানৌকোগুলো এসে লেগেছে চরের খুব কাছে; পৃথিবীর এই সব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল;- এশিরিয়া ধুলো আজ, বেবিলন ছাই হয়ে আছে। হ্যাঁ। এশিরিয়া আজ ধুলো হয়ে আছে। তবু আমরা দেখতে চাই সেই ধুলোর ভিতরে আমাদের জন্য জানবার কিছু আছে কিনা। তার আগে একটা কথা। আমরা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ইতিহাসসংক্রান্ত ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। কাজেই প্রাচীন এশিরিয়া সভ্যতা প্রাচীন মেসোপটেমিয় সভ্যতার অর্ন্তগত না বলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ইতিহাসের অর্ন্তগত বলাই সঙ্গত বলে আমি মনে করি। যেমন পাহাড়ে বাস করার সুবাদে একজন মানুষকে পাহাড়ি বলা কি অসঙ্গত নয়? কিংবা বাংলার সভ্যতা ও সংস্কৃতি কি কেবলই ব-দ্বীপের সভ্যতা ও সংস্কৃতি? এশিরিয় সৈন্য প্রাচীন এশিরিয়া সভ্যতাকে আমরা প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার সভ্যতা না বললেও মেসোপটেমিয়া শব্দটি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারনা থাকা জরুরি। মেসোপটেমিয়া শব্দটি গ্রিক শব্দ এবং এর অর্থ: নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল। নদী দুটি হচ্ছে ইরাকের দজলা (তাইগ্রিস) ও ফোরাত (ইউফ্রেতিস)। তাইগ্রিস ও ফোরাত ইউফ্রেতিস-এর ঐ মধ্যবর্তী অঞ্চলটিই প্রাচীন সভ্যতার জন্মভূমি ও লীলাভূমি। মধ্যপ্রাচ্য আজ সাম্রাজ্যবাদীদের থাবার গ্রাসে নিয়ত রক্তাক্ত হচ্ছে। এখন সময় হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উজ্জ্বল অতীত সম্বন্ধে আলোকপাত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ইতিহাসসংক্রান্ত ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসা। মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন ইতিহাসসংক্রান্ত ইউরোপীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখান করে বলব প্রাচীন এশিরিয় সভ্যতা মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীন সভ্যতা কেবলি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নয়।

Friday, July 29, 2016

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত এক বাঙালি সৈনিকের ইতিহাস

প্রায় একশো বছর আগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত এক বাঙালি সৈনিকের ব্যবহৃত সরঞ্জাম হঠাৎই খুঁজে পাওয়া গেছে।

কলকাতার কাছে, পূর্বতন ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরের বাসিন্দা যোগেন সেন বিশ্বযুদ্ধে ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টে যোগ দিয়েছিলেন। এত বছর পরে তাঁর চশমা, নোটবই আর কোনও এক রহস্যময়ী নারীর কাছ থেকে উপহার পাওয়া একটা বই এগুলি চন্দনগরের একটি মিউজিয়ামের গুদামেই পড়ে ছিল। কিছুদিন আগে খোঁজ পাওয়া যায় ওই সরঞ্জামগুলির আর বেরিয়ে আসে মি. সেনের ইতিহাস।

লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক শান্তনু দাস এসেছিলেন চন্দনগর মিউজিয়ামে। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই খুঁজে পান চন্দননগরের আদি বাসিন্দা যোগেন সেনের ইতিহাস। তারপরে খোঁজ পাওয়া যায় যে চন্দননগর মিউজিয়ামে রয়েছে যোগেন সেনের ব্যবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী।

কিউরেটর অরূপ গাঙ্গুলি বলছিলেন, ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের সৈনিক যোগেন সেনের ব্যবহৃত জিনিসের মধ্যে রয়েছে ভাঙ্গা চশমা, পয়সার থলি, নোটবই, কয়েকটা ফিকে হয়ে যাওয়া ছবি, ব্যাজ, ছুরি প্রভৃতি।

এই সামগ্রীগুলো একটা সময়ে মিউজিয়ামের গুদামঘরে পড়েছিল। সম্প্রতি সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অধ্যাপক দাশ বলছিলেন, যোগেন সেনের ব্যবহৃত জিনিষগুলির মধ্যে একটা ছোট্ট বই রয়েছে, যেটা বেশ রহস্যজনক। কোনও এক নারী এই বইটা উপহার দিয়েছিলেন যোগেন সেনকে। কিন্তু তিনি কে, সেটা অজানা। মি. দাশ বলছিলেন ফরাসি উপনিবেশ চন্দনগর, যেখান থেকে ইয়র্কশায়ার, ৫ হাজার মাইলেরও বেশি পথ - এই দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে যোগেন সেন কেন যুদ্ধে যোগ দিতে গেলেন।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, যুগবিভাগ ও চর্যাপদ

 বাংলা ভাষা ও লিপি
বাংলা ভাষার আদি উৎস “ইন্দো ইউরোপীয় ভাষা”। এর দুটি অংশ। ১) কেন্তুম ও ২) শতম। বাংলা ভষার উৎপত্তি কেন্তুম অংশ থেকে। ড.শহীদুল্লাহ এর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি গৌড়ীয় প্রাকৃত খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দী থেকে। ড.সুনীতিকুমা চট্রোপাধ্যায়ের মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি মাগধী প্রাকৃত থেকে খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দী থেকে। প্রাচীন ভারতীয় লিপি ২ ভাগে বিভক্ত। ১) ব্রাহ্মী লিপি ২) খরোষ্ঠী লিপি। বাংলা ভাষার উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপি থেকে।

বাংলা সাহিত্য
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের ইতিহাস
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস হাজার বছরের অধিক কালের ইতিহাস
এই হাজার বছরের অধিক কালের ইতিহাস কে প্রধানতঃ ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. প্রাচীন যুগ, ২. মধ্যযুগ ৩. আধুনিক যুগ

১. প্রাচীন যুগঃ (৬৫০/৯৫০ – ১২০০ খ্রী)
শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী – ড:মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ড:মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে (৬৫০-১২০০ খ্রীঃ / সপ্তম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) প্রায় ৫৫০ বছর
 ড:সুনীতিকুমার চট্রোপধ্যায়ের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ (৯৫০-১২০০ খ্রীঃ / দশম শতাব্দী থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) প্রায় ২৫০ বছর।
প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যের নিদর্শন – চর্যাপদ।

অন্ধকার যুগঃ (১২০১-১৩৫০ খ্রী.)
অন্ধকার যুগ এমন একটি যুগ যে যুগে বাংলা সাহিত্যের কোনও নিদর্শন পাওয়া যায়নি অন্ধকার যুগ সৃষ্টি করার জন্য দায়ী করা হইছে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন বিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী। তিনি ১২০১ সালে মতান্তরে ১২০৪ সালে হিন্দু সর্বশেষ রাজা লক্ষণ সেন কে পরাজিত করে এ অঞ্চলে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে। অন্ধকার যুগে বাংলা সাহিত্যের কোনও নিদর্শন না মেললেও সংস্কৃত সাহিত্যের নিদর্শন মেলে। যেমনঃ
১/ রামাই পন্ডিতের “শূণ্যপুরাণ” ২/ হলায়ূধ মিশ্রের “সেক শুভোদয়া” 

মধ্যযুগের বেশ কিছু কাব্যঃ
১. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য,  ২. বৈষ্ণপদাবলী,  ৩. মঙ্গলকাব্য,  ৪. রোমান্টিক কাব্য
৫. আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য,  ৬. পুঁথি সাহিত্য,  ৭. অনুবাদ সাহিত্য
৮. জীবনী সাহিত্য,  ৯. লোকসাহিত্য,  ১০. মর্সিয়া সাহিত্য, ১১. করিয়ালা ও শায়ের
১২. ডাক ও খনার বচন,  ১৩. নথিসাহিত্য

মধ্যযুগে অন্য সাহিত্যের কিছু নমুনা পাওয়া যায়ঃ

১. পত্র ২. দলিল দস্তাবেজ, ৩. আইন গ্রন্থের অনুবাদ
তবে এগুলো সাহিত্যের মানে উত্তীর্ণ হতে পারে নি।

মধ্যযুগে মুসলিম কবিগণ রচনা করেন রোমান্টিক কাব্য পক্ষান্তরে হিন্দুধর্মাবলী কবিগণ রচনা করেন দেব দেবী নির্ভর আখ্যান / কাহিনী কাব্য। মধ্যযুগে সতের শতকে বাংলার বাইরে আরাকান রাজসভায় বাংলাভাষা ও সাহিত্যের চর্চা হয়। মধ্যযুগে দুটো বিরাম চিহ্ন ছিল বিজোড় সংখ্যক লাইনের পর এক দাড়ি জোড় সংখ্যক লাইনের পর দুই দাড়ি

মায়ান সভ্যতার অজানা ইতিহাস

সংগৃহীত
খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ বছর আগে গড়ে উঠেছিলো মায়ান সভ্যতা। মায়ান সভ্যতার কথা শুনলে ভেবেই পাওয়া যায় না যে, সেই চার হাজার বছর আগে কীভাবে তারা এতো উন্নত হয়েছিলো? যখন পৃথিবীর মানুষ বাড়িঘরই ঠিকঠাক বানাতে শেখেনি, কেবল আগুন জ্বালিয়ে খাবার সেদ্ধ করা শিখেছিলো, সেই সময় তারা কীভাবে পাথর দিয়ে তৈরি করেছিলো বিশাল বিশাল সব ঘরবাড়ি। সে সময় অধিকাংশ জাতির ভাষাই পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি, তখন তারা তাদের ভাষায় এমনকি একরকম ক্যালেন্ডারও বানিয়ে ফেলেছিলো। চাঁদ, তারা, গ্রহ নক্ষত্র নিয়েও তারা পড়াশুনা করত। অর্থাৎ জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা করতো। শুধু তাই নয়, তারা গান গাইত, কবিতা লিখত, রীতিমতো সাহিত্য চর্চা করতো! পুরো আমেরিকা মহাদেশজুড়ে মায়ান সভ্যতাই একমাত্র প্রাচীন সভ্যতা, যাদের নিজস্ব লেখা ভাষা ছিলো, যারা সুন্দর করে পড়তে ও লিখতে জানতো।


কিন্তু কীভাবে জন্ম হলো মায়ান সভ্যতার? কীভাবেই বা এই সভ্যতা সেই আদিম যুগেও এতো বিকশিত হলো?


তারা মৃতদেহের সৎকার করতো, মৃতদেহের ওপর সমাধিও নির্মাণ করতে শুরু করে। এভাবেই মায়ানরা ধারণা পেয়ে গেলো পিরামিড ও মমি তৈরির। মিসরের সুউচ্চ পিরামিড ও মমির মতো বিশাল না হলেও সেই ছাঁচের মমি ও পিরামিড তৈরি করতো তারা। মায়ান সভ্যতা বিখ্যাত হয়ে আছে ওদের স্থাপত্যশিল্পের জন্য। ওদের তৈরি বিশাল বিশাল ঘরবাড়ি, ওদের তৈরি পিরামিড আর মূর্তিগুলোর জন্য। আধুনিক সমাজের বিকাশে অবদান আছে অনেক প্রাচীন সভ্যতার। মায়ান সভ্যতা তার মধ্যে অন্যতম। মায়ান সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিলো ২৬০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে। বর্নিল এ সভ্যতায় যেমন ছিল হিংস্রতা, নিষ্ঠুর আদিমতা, তেমনি বিকাশ হয়েছিলো জ্ঞান-বিজ্ঞানেরও।