Wednesday, June 1, 2016

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ধারাবাহিক ও সংখিপ্ত রুপে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রস্তর যুগ(৭০,০০০-৩৩০০খ্রীষ্টপূর্ব)

দক্ষিণ এশীয় প্রস্তর যুগ দক্ষিণ এশিয়ায় প্যালিওলিথিক, মেসোলিথিক ও নিওলিথিক পর্য জুড়ে বিদ্যমান ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম শারীরবৃত্তীয়ভাবে আধুনিক হোমো সেপিয়েন্স-এর প্রমাণ পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কার বাটাডোমবালেনা ও বেলিলেনা গুহাক্ষেত্রে। অধুনা পশ্চিম পাকিস্তানের মেহেরগড়ে নিওলিথিক পর্ব শুরু হয় ৭০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে এবং শেষ হয় ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ব্রোঞ্জ যুগের সূচনাপর্বে। দক্ষিণ ভারতে মেসোলিথক পর্ব ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এখানে নিওলিথিক পর্ব স্থায়ী হয়েছিল ১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত। এরপর ব্রোঞ্জ যুগকে এড়িয়েই এখানে মেগালিথিক অন্তর্বর্তী পর্ব শুরু হয়ে যায়। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতে যথাক্রমে ১২০০ ও ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ লৌহযুগ শুরু হয়েছিল।

মেহেরগড়(৭০০০-৩৩০০খ্রীষ্টপূর্ব)

মেহেরগড় ৭০০০খ্রীষ্টপূর্ব থেকে ৩২০০ খ্রীষ্টপূর্ব আবিস্কৃত হয়েছে। মেহেরগড় সভ্যতাঃ মেহেরগড় সভ্যতা ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে জাঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ এবং রিচার্ড মিডৌ আবিস্কার করেন। এখন এর বর্তমান অবস্থান পাকিস্থানে।

সিন্ধু সভ্যতা(৩৩০০-১৭০০খ্রীষ্টপূর্ব)

সিন্ধু সভ্যতা ছিল একটি ব্রোঞ্জ যুগীয় সভ্যতা (৩৩০০ – ১৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ; পূর্ণবর্ধিত কাল ২৬০০ – ১৯০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ)। এই সভ্যতার কেন্দ্র ছিল মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত সিন্ধু নদ অববাহিকা। প্রথম দিকে এই সভ্যতা পাঞ্জাব অঞ্চলের সিন্ধু অববাহিকায় বিকাশ লাভ করে। পরে তা প্রসারিত হয় ঘগ্গর-ভাকরা নদী উপত্যকা ও গঙ্গা-যমুনা দোয়াব অঞ্চল পর্যন্ত। বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের পশ্চিমদিকের রাজ্যগুলি, দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তান এবং ইরানের বালোচিস্তান প্রদেশের পূর্ব অংশ এই সভ্যতার অন্তর্গত ছিল।

মুঘল সাম্রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

মুঘল সাম্রাজ্য ছিল ভারত উপমহাদেশের একটি সাম্রাজ্য। উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে মুঘল সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। মুঘল সাম্রাজ্য পারস্যের ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত ছিল।

পানিপথের প্রথম যুদ্ধে ইবরাহিম লোদির বিরুদ্ধে বাবরের জয়ের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। মুঘল সম্রাটরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার তুর্কি-মঙ্গোল বংশোদ্ভূত। তারা চাগতাই খান ও তৈমুরের মাধ্যমে নিজেদের চেঙ্গিস খানের বংশধর বলে দাবি করতেন। ১৫৫৬ সালে আকবরের ক্ষমতারোহণের মাধ্যমে মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্রুপদি যুগ শুরু হয়। আকবর ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে অর্থনৈতিক প্রগতি বহুদূর অগ্রসর হয়। আকবর অনেক হিন্দু রাজপুত রাজ্যের সাথে মিত্রতা করেন। কিছু রাজপুত রাজ্য উত্তর পশ্চিম ভারতে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জারি রাখে কিন্তু আকবর তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হন। মুঘল সম্রাটরা মুসলিম ছিলেন তবে জীবনের শেষের দিকে শুধুমাত্র সম্রাট আকবর ও তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর নতুন ধর্ম দীন-ই-ইলাহির অনুসরণ করতেন।

মুঘল সাম্রাজ্য স্থানীয় সমাজে হস্তক্ষেপ করত না তবে প্রশাসনিকভাবে এসববের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হত। অনেক বেশি কাঠামোগত, কেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। মুঘল শাসনামলে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন মারাঠা, রাজপুত ও শিখরা সামরিক শক্তি অর্জন করে।

শাহজাহানের যুগে মুঘল স্থাপত্য এর স্বর্ণযুগে প্রবেশ করে। তিনি অনেক স্মৃতিসৌধ, মসজিদ, দুর্গ নির্মাণ করেন যার মধ্যে রয়েছে আগ্রার তাজমহল, মোতি মসজিদ, লালকেল্লা, দিল্লি জামে মসজিদ। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে মুঘল সাম্রাজ্যের সীমানা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায়। শিবাজী ভোসলের অধীনে মারাঠাদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্যের অবনতি শুরু হয়। আওরঙ্গজেবের সময় দক্ষিণ ভারত জয়ের মাধ্যমে ৩.২ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি অঞ্চল মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়। এসময় সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ১৫০ মিলিয়নের বেশি যা তৎকালীন পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং জিডিপি ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।